আলো (Light)
আলো এক প্রকার শক্তি (energy) বা বাহ্যিক কারণ (external cause) যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়।
আলোকবর্ষ (Light-year)
আলো শূন্যস্থানে এক বৎসর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে আলোক বর্ষ বলে।
এক আলোকবর্ষ = ৯.৪৬১ ১০১২ কিমি
= ৫.৮৭৯ ১০১২ মাইল
শূন্য মাধ্যমে আলোর গতি |
৩ ১০৬ (৩ লক্ষ) কিলোমিটার/সে. |
৩ ১০৮ মিটার/ সে. |
৩ ১০১০ সেমি./সে. |
১,৮৬,০০০ মাইল/ সে. |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর প্রকৃতি (Nature of Light)
আলো কণা না তরঙ্গ সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের বিতর্কের অবসান এখনও হয় নি। এখন মনে করা হয় অবস্থা বিশেষ আলোক কণা অথবা তরঙ্গরূপে আচরণ করে। তবে কখনই একসঙ্গে কণা বা তরঙ্গ নয়। দীপ্তিমান বস্তু থেকে আলো কিভাবে আমাদের চোখে আসে তা ব্যাখ্যার জন্য বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত চারটি তত্ত্ব প্রদান করেছেন। যথা-
তত্ত্ব | প্রবক্তা |
| কণাতত্ত্ব | স্যার আইজ্যাক নিউটন |
| তাড়িত চৌম্বক তত্ত্ব | ম্যাক্সওয়েল |
| তরঙ্গ তত্ত্ব | হাইগেন |
| কোয়ান্টাম তত্ত্ব | ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব (Quantum theory of light)
আলোকশক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। প্রত্যেক রং এর আলোর জন্য এই শক্তি প্যাকেটের শক্তির একটা সর্বনিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্নমানের শক্তি সম্পন্ন কণিকাকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
Plank's Constant - এর মান ৬.৬৫ ১০-২৭ erg sec |
কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া বলে। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, এর জন্য ১৯২১ সালে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
তাড়িত চৌম্বক বর্ণালী (Electromagnetic Spectrum)
কোনো পদার্থের পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে বিভিন্ন খোলকে অবস্থান করে। পরমাণুতে কোনো শক্তি সরবরাহ করা হলে ইলেকট্রন এক খোলক থেকে লাফিয়ে অন্য খোলকে চলে যায়। পরে যখন ইলেকট্রনগুলো নিজ খোলকে ফিরে আসে তখন ইলেকট্রনের মধ্যে সঞ্চিত শক্তি বিকিরণ হয়। এই বিকিরিত শক্তিই আলো। শক্তি বিকিরণ তরঙ্গ আকারে ঘটে যা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। গামা রশ্মি, এক্সরে, দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত রশ্মি এবং বেতার তরঙ্গ সবই তাড়িত চৌম্বক তরঙ্গ। সব তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের বেগ শূন্য মাধ্যমে একই এবং তা সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। সব তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের বেগ সমান হলেও এদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বা কম্পাঙ্ক বিভিন্ন। আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অ্যাংস্ট্রম এককে পরিমাপ করা হয়।
বিভিন্ন তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের তুলনামূলক চিত্র (তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উর্ধ্বক্রম অনুসারে)
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ Name Of Ray | তরঙ্গ দৈর্ঘ্য | মন্তব্য |
গামা রশ্মি Gamma-ray | <10-11m ক্ষুদ্রতম তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ | পারমাণবিক বিস্ফোরণের তেজস্ক্রিয় গামা রশ্মি উৎপন্ন হয়। এ রশ্মি জীব বিশেষ করে মানুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। |
এক্সরে Х-гау | 10-11m থেকে 10-8m | ভাঙ্গা হাড়ের অবস্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর এক্সরে বের হয়। |
অতিবেগুণী রশ্মি Ultra violet-ray | 10-9m থেকে 3.510-7m | এই রশ্মি ত্বকে ভিটামিন-ডি তৈরিতে সাহায্য করে। |
দৃশ্যমান আলো Visible light | 410-7m থেকে 710-7m (400 - 700 ন্যানোমিটার) | তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির সেই অংশ যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান অর্থ্যাৎ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বলে। |
অবলোহিত রশ্মি Infrared-ray | 10-6 m থেকে 10-3m | যে সকল তাড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সীমা ১ মাইক্রোমিটার থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের অবলোহিত রশি বলা হয়। সূর্য থেকে যে বিকীণ তাপ আসে তা অবলোহিত রশ্মি। উইলিয়াম হার্শেল ১৮০০ সালে এই বিকিরণ আবিষ্কার করেন। সাধারণত রিমোট কন্ট্রোল সমূহে অবলোহিত বা ইনফ্রারেড রে (Ray) ব্যবহৃত হয়। |
মাইক্রোওয়েভ Microwave | 10-3m থেকে 1m | RADAR (= Radio Detection And Ranging), টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে টিভি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে অডিও সিগনাল ফ্রিকুয়েন্সী মডুলেশন করে পাঠানো হয়। |
বেতার তরঙ্গ Radio wave | 1m হতে 104m. সর্বাপেক্ষা বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ | বেতার তরঙ্গ বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে প্রতিফলিত হয়। |
কম্পাঙ্ক এবং তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: যে চৌম্বক তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম তার কম্পাঙ্ক তত বেশি। গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি এবং বেতার তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বেগুনী ও হলুদ
লাল ও নীল
বেগুনী ও লাল
নীল ও সবুজ
দৃশ্যমান আলো (Visible light)
তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির সেই অংশ যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান অর্থ্যাৎ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বলে। আলোকের বর্ণ নির্ধারণ করে তার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উর্দ্ধক্রম-
Violet (বেগুনী) < Indigo (আসমানী) < Blue (নীল) < Green (সবুজ) < Yellow (হলুদ) < Orange (কমলা) < Red (লাল)
দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে -
আলোর বর্ণ | তরঙ্গ দৈর্ঘ্য | প্রতিসরণ | বিচ্যুতি | বিক্ষেপণ |
| লাল | সবচেয়ে বেশি | সবচেয়ে কম | ||
| বেগুনী | সবচেয়ে কম | সবচেয়ে বেশি | ||
লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে এটি বেশি দূর থেকে দেখা যায়। বিপদ সংকেতের জন্যে তাই লাল আলো ব্যবহার করা হয়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অধিক বলে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় আমরা সূর্যকে লাল দেখি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর প্রতিফলন (Reflection of light)
আলো যখন বায়ু বা অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোন মাধ্যমে বাধা পায় তখন দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে কিছু পরিমাণ আলো প্রথম মাধ্যমে আসে। একে আলোর প্রতিফলন বলে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দর্পণ (Mirror)
যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে। সাধারণত কাচের একদিকে ধাতুর (সাধারণত রূপা অথবা মার্কারির) প্রলেপ দিয়ে দর্পণ তৈরি করা হয়। কাচের উপর ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে পারা লাগান বা সিলভারিং বলে।

সমতল দর্পণ (Plane Mirror)
একটি সমতল দর্পন হতে বস্তুর দুরত্ব যত, দর্পণ হতে বিশ্বের দূরত্বও তত হয়। সমতল দর্পণে নিজের পূর্ণ বিম্ব দেখতে হলে দর্পণের দৈর্ঘ্য দর্শকের উচ্চতার কমপক্ষে অর্ধেক হওয়া প্রয়োজন। যেমন: একজন লোকের উচ্চতা ৬ ফুট। লোকটি আয়নায় নিজের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে আয়নার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে (৬ ২) = ৩ ফুট হতে হবে। সরল পেরিস্কোপ তৈরিতে সমতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
সরল পেরিস্কোপ (Simple Periscope): প্রতিফলন ও ব্যতিচার নীতির উপর ভিত্তি করে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। কোনো দূরের জিনিস সোজাসুজি দেখতে বাধা থাকলে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ভীড় এড়িয়ে খেলা দেখা, শত্রু সৈন্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিনের নাবিকেরা পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির নিচ থেকে উপরের দৃশ্য দেখে।
গোলীয় দর্পণ (Spherical Mirror)
উত্তল দর্পণ (Convex Mirror): পিছনের যানবাহন বা পথচারী দেখার জন্য বিভিন্ন গাড়িতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়। আলোকরশ্মি চারদিকে ছড়িয়ে দেয় বলে মোটর গাড়ির হেডলাইট এবং রাস্তার লাইটে প্রতিফলক হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
অবতল দর্পণ (Concave Mirror): বিবর্ধিত বিম্ব তৈরি করা যায় বলে রূপ চর্চা ও দাঁড়ি কাঁটার সময় ব্যবহৃত হয়। ডাক্তাররা চোখ, নাক, কান ও গলা পর্যবেক্ষণ করার সময় এই দর্পণ ব্যবহার করেন। স্টীমারের সার্চ লাইচের প্রতিফলক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নভো দূরবীক্ষণে অবতল দর্পণের ব্যবহার দেখা যায়।
বিম্ব (Image)
কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোন বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর বিম্ব বলে। বিম্ব দুই রকমের হয়। যথা- সদ বিম্ব এবং অসদ বিম্ব।
বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন (Lateral Inversion of Image)
সমতল দর্পণের সামনে দাঁড়ালে আমাদের ডান হাতকে বাম হাত এবং বাম হাতকে ডান হাত বলে মনে হয়। মনে হয় যেন সমগ্র দেহের পার্শ্ব পরিবর্তন হয়েছে। একে বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন বলে। যেমনঃ একটি কাগজে 'F' অক্ষর লিখে একটি সমতল দর্পণের সামনে ধরলে দেখা যাবে প্রতিবিম্ব উল্টে গেছে। তবে প্রতিসম বস্তুর ক্ষেত্রে পার্শ্ব পরিবর্তন বুঝা যায় না। যেমন: ইংরেজি 'O' বা 'T' এর পার্শ্ব পরিবর্তন বুঝা যায় না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর প্রতিসরণ (Refraction of Light)

আলোকরশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তন করার ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। আলোর প্রতিসরণ জন্য পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়। বায়ুমণ্ডলীয় আলোর প্রতিসরণের জন্য সূর্যোদয়ের খানিকটা পূর্বে ও পরে সূর্যকে দেখা যায়, চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় এবং রাতের আকাশে তারাগুলো ঝিকমিক করে বলে মনে হয়।
প্রতিসরণাঙ্ক: আলোকরশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন নির্দিষ্ট রঙের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইন-এর অনুপাত যে ধ্রুব হয় তাকে প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক বলে।
ক্রান্তি কোণ: আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রতিসরিত হওয়ার সময় আপতন কোণের যে মানের জন্য প্রতিসরণ কোণের মান ৯০° হয়, অর্থাৎ প্রতিসরিত রশ্মি বিভেদ তল ঘেষে চলে যায় তাকে হালকা মাধ্যমের সাপেক্ষে ঘন মাধ্যমর ক্রান্তি কোণ বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection)
আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণরূপে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। আলোর এই ধর্মকে কাজে লাগিয়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবল তৈরি করা হয়েছে।
আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য -
- হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- পদ্ম পাতার উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে চকচক করে।
- গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্রে উত্তপ্ত পিচঢালা মসৃন রাজপথকে বৃষ্টির অব্যবহিত পরবর্তী সময়ের মত ভেজা ও চকচকে মনে হয়।
- মরুভূমির মরীচিকার (Mirage) সৃষ্টি হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লেন্স (Lens)
দুই গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে। লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা- উত্তল লেন্স এবং অবতল লেন্স। লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক ডাইঅপ্টার। উত্তল লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক এবং অবতল লেন্সের ক্ষমতা ঋনাত্মক।
উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
- আতশী কাচ হিসাবে এবং আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
- চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদি আলোক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
অবতল লেন্সের ব্যবহার:
- প্রধানত চশমায় ব্যবহার করা হয়।
- গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্র এবং সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টারে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
৩০°
৬০°
৯০°
১২০° পর্যন্ত
প্রিজম (Prism)
দুইটি হেলানো সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ প্রতিসারক মাধ্যমকে প্রিজম বলা হয়। প্রিজমে পতিত আলো সাধারণত প্রতিসরিত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
৭
৩
৫
অসংখ্য
রঙধনু বা রামধনু (Rainbow)
রঙধনু একটি আলোকীয় ঘটনা। এক পশলা বৃষ্টির পর আবার যখন সূর্য উঠে তখন কখনও কখনও সূর্যের বিপরীত দিকে আকাশে উজ্জ্বল রঙের অর্ধবৃত্ত দেখা যায়। একে বলা হয় রঙধনু। রংধনু সৃষ্টির সময় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে। রংধনুতে বর্নালীর ৭টি রঙ থাকে। সূর্যের বিপরীতে গঠিত হয় বলে সকালে পশ্চিমাকাশে এবং বিকালে পূর্বাকাশে রংধনু দেখা যায়।
আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion of light)
সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাচের প্রিজমের মধ্যে দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙে বিশ্লিষ্ট হয়। প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয়, তাহলে পর্দায় ৭টি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী (Spectrum) বলে। কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। বর্ণালীতে বেগুনি (Violet), আসমানী (Indigo), নীল (Blue), সবুজ (Green), হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) ও লাল (Red) এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়। রঙগুলোর নাম এবং এদের ক্রম মনে রাখার জন্য এদের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে ইংরেজিতে VIBGYOR ও বাংলায় বেনীআসহকলা শব্দ গঠন করা হয়। বর্ণালীর লাল আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম এবং বেগুনী আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। হলুদ রঙের আলোর বিচ্যুতি লাল ও বেগুনি আলোর মাঝামাঝি বলে এর বিচ্যুতিকে গড় বিচ্যুতি এবং হলুদ রশ্মিকে মধ্যরশ্মি বলে। বর্ণালীতে হলুদ রঙের পাশের দুটি রঙ হলো সবুজ ও কমলা। বিজ্ঞানী নিউটন প্রমাণ করেন যে, সাদা আলোর প্রকৃতি যৌগিক এবং এই সাদা আলো সাতটি মূল রঙের আলোর সমষ্টি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মৌলিক বর্ণ (Primary Colour)
সাতটি মূল বর্ণের সমন্বয়ে বর্ণালী গঠিত হয়। তবে এই সাতটি রঙের মধ্যে তিনটি রঙ আছে যাদেরকে পরিমাণ মতো মিশিয়ে অপর যে কোন রঙ তৈরি করা যেতে পারে। এদেরকে মৌলিক বর্ণ বলে। এই তিনটি রঙ হচ্ছে - লাল (Red), সবুজ (Green), ও নীল (Blue)।
মনে রাখার সহজ উপায়ঃ 'আসল' রঙ - আ ঃ নীল (আসমানী), স ঃ সবুজ, ল ঃ লাল।
মৌলিক বর্ণগুলো মিশিয়ে বিভিন্ন বর্ণ তৈরি করা যায়। যথা-
লাল + নীল = বেগুনি,
লাল + হলুদ = কমলা
নীল + হলুদ = সবুজ
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বেগুনী
কালো
হলুদ
লাল
পরিপূরক বর্ণ (Complementary Colour)
একটি লাল কাচকে উত্তপ্ত করলে সবুজ রঙ বের হয়। আর সবুজ কাচকে উত্তপ্ত করলে লাল রঙ বের হয়। একটি নীল কাচকে উত্তপ্ত করলে হলুদ রঙ বের হয়। আর হলুদ কাচকে উত্তপ্ত করলে নীল রঙ বের হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বেগুনী
কালো
হলুদ
লাল
আলোর শোষণ, প্রতিফলন ও বস্তুর বর্ণ
Absorption and reflection of light and colour of a body
কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে। তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়। সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়। যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়। যেমন: আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়।
দিনের বেলা সূর্যালোকে গাছের পাতা সবুজ দেখায় কিন্তু লাল আলোতে গাছের পাতা কালো বলে মনে হয়। দিনে গাছের সবুজ পাতা সূর্যালোকের সবুজ বাদে সাতটি বর্ণের সবকটিই শোষণ করে ফলে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলোকে শোষণ করে নেয় বলে কোনো আলোই প্রতিফলিত হয় না তাই লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়। একইভাবে, লাল আলোতে নীল রঙের ফুল কালো দেখা যায়; সবুজ আলোতে একটি হলুদ রঙের বস্তু কালো দেখায়; সোডিয়াম লাইটের হলুদ আলোতে রাতে লাল কাপড় কালো দেখায়। নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে সাদা ফুল নীল দেখায় কারণ একটি সাদা ফুল সূর্যের সাতটি আলোই প্রতিফলিত করে বলে তা সাদা দেখায়। সাদা ফুল থেকে প্রতিফলিত আলোক রশ্মি যখন নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে আসে তখন ঐ কাঁচ নীল বাদে অন্য সব বর্ণের আলো শোষণ করে নেয় তাই আমাদের চোখে শুধু নীল আলো পৌছে। ফলে ফুলটি নীল দেখায়। নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে হলুদ ফুল কালো দেখায় কারণ হলুদ ফুল শুধু হলুদ বর্ণের আলো প্রতিফলিত করে বলে তা হলুদ দেখায়। কিন্তু হলুদ বর্ণের আলোক নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে আসার সময় শোষিত হয় তাই হলুদ ফুলকে নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে দেখলে কালো দেখায়।

মানুষের চোখ (Human Eye)
মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যাবলী অনেকটা ক্যামেরার মতো। মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল। চোখের আলোকসংবেদী অংশের নাম রেটিনা। কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের-লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিশ্ব গঠন করে। রেটিনায় গঠিত বিশ্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত। রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে পরিণত করে। মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। রেটিনাতে দুই ধরনের আলোক সংবেদী কোষ থাকে। যথা-রডস এবং কোনস। রডস অন্ধকারে এবং কোনস আলোতে দেখতে সহায়তা করে। পেঁচা দিনে দেখতে পায়না কিন্তু রাতে দেখতে পায় কারণ পেঁচার চোখের রেটিনাতে রডস এর সংখ্যা বেশি কিন্তু কোনস এর সংখ্যা কম। রাতের বেলা বিড়াল ও কুকুরের চোখ জ্বলজ্বল করে, কারণ কুকুর ও বিড়ালের চোখে টেপেটাম নামক রঞ্জক কোষ থাকে। যদি কোনো বস্তুকে চোখের সামনে থেকে সরিয়ে নেয়া হয়, তাহলে সরিয়ে নেওয়ার ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর অনুভূতি আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। এই সময়কে দর্শনানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। সবুজ-হলুদ আলোতে মানুষের দর্শনানুভূতি সুবচেয়ে বেশি পক্ষান্তরে লাল-বেগুনি আলোতে মানুষের দর্শনানুভূতি সর্বনিম্ন। স্বাভাবিক চোখের দৃষ্টির পাল্লা ২৫ সেমি থেকে অসীম পর্যন্ত। যদি কোনো চোখ এই পাল্লার মধ্যে কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে না পায়, তাহলে সে চোখ ত্রুটিপূর্ণ বলে ধরা হয়। চোখের ত্রুটি প্রধানত দুই প্রকার। যথা-হ্রস্বদৃষ্টি (Myopia) এবং দীর্ঘদৃষ্টি (Hypermetropia)।
| চোখের ত্রুটি | নিকট বস্তু দর্শণ | দূরের বস্তু দর্শণ | চিকিৎসায় প্রয়োজন |
| দীর্ঘদৃষ্টি (Hypermetropia) | X | √ | উত্তল লেন্স |
| হ্রস্বদৃষ্টি (Myopia) | √ | X | অবতল লেন্স |
বিষম দৃষ্টি (Astigmatism): চোখের এই ত্রুটির কারণে একই দূরত্বে অবস্থিত আনুভূমিক ও উলম্ব রেখাকে সমান স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। বিষমদৃষ্টি ত্রুটি চিকিৎসায় সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে 'টরিক কন্ট্যাক্ট লেন্স' এর ব্যবহারও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ কন্ট্যাক্ট লেন্সসমূহ Polyvinyl chloride (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) দিয়ে তৈরি। কিন্তু টরিক কনট্যাক্ট লেন্স সিলিকন হাইড্রোজেল দিয়ে তৈরি।
চোখের ছানি (Cataract): চোখের লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে গেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। একে চোখের ছানি পড়া বলে। চিকিৎসা -অপারেশনের মাধ্যমে অস্বচ্ছ লেন্স অপসারণ করে স্বচ্ছ লেন্স সংযোজন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্যামেরা (Camera)
ক্যামেরা এবং মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যপ্রণালীর অনেক মিল আছে। ফটোগ্রাফিক প্লেটে সিলভার হ্যালাইড (AgBr বা Agl) এর আবরণ থাকে।
দৃষ্টি সহায়ক যন্ত্র (Vision Aid Instruments)
যে সকল যন্ত্র কোন বস্তু দেখার ব্যাপারে আমাদের চোখকে সাহায্য করে তাদেরকে দৃষ্টি সহায়ক যন্ত্র বলে। যেমন: অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ, দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা টেলিস্কোপ, বাইনোকুলার ইত্যাদি।
যন্ত্র বা অঙ্গ | সৃষ্ট প্রতিবিম্বের ধরন |
| চোখ | সদ, উল্টো ও খর্বিত |
| ক্যামেরা | সদ, উল্টো ও খর্বিত |
| সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা অতশী কাঁচ | সোজা, বিবর্ধিত ও অসদ বিম্ব |
| জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্র | উল্টো ও বিবর্ধিত |
বিবিধ
- অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন পোলারয়েড পদ্ধতিতে কাজ করে। ফটোস্ট্যাট মেশিনে সেলেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থায় ধাতু নির্মিত অক্ষরের প্রয়োজন ফুরাবার বড় কারণ ফটো লিথোগ্রাফি।
Read more